Md. Golam Rabbani Dukhu Mia

২৮ নভেম্বর ২০১৯ ১২:০০


বিভাগ: কম্পিউটার প্রকৌশল

পড়ার সময়: ৩ মিনিট


কম্পিউটার প্রকৌশল পড়া ও এর ভবিষ্যৎ


চিকিৎসা, কৃষি, যোগাযোগ, নির্মাণ, যানবাহন যোগাযোগ, ইলেক্ট্রনিক্স, পোশাক শিল্প, কেনা-বেচাসহ জীবনের নানা ক্ষেত্র এখন কম্পিউটার সেবা নির্ভর। অদূর ভবিষ্যতে মানুষ তার কাজের ৯০-৯৫ ভাগই কম্পিউটার নির্ভর সেবার মধ্যমে সম্পন্ন করবে।

আমাদের অনেকেরই ধারণা, কম্পিউটার বিজ্ঞান মানেই বোধ হয় কেবল প্রোগ্রামিং।অনেকে আবার বলে, কেউ কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়ে মানেই সে প্রোগ্রামিং খুব ভালো পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে প্রোগ্রামিং হলো কম্পিউটার প্রকৌশলের সিলেবাসের একটি অংশ মাত্র। আমি কম্পিউটার বিজ্ঞানের একজন শিক্ষার্থী। এই কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে যা পড়ানো হয় তা হলো:-

প্রথম বছর: বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষা যেমন C, C++

দ্বিতীয় বছর: জাভা (Java), আলগরিদম (Algorithm), ডেটা স্ট্রাকচার (Data Structure) কীভাবে কোটি কোটি ডেটা একসঙ্গে রাখা হয় ।  

তৃতীয় বছর: Software Engineering, Database System, Pattern Recognition, Numerical Method, Software Engineering, Computer Network কীভাবে কাজ করে ইত্যাদি।

চতুর্থ বছর: Artificial Intelligence, Computer Graphics, Computer Organization & Architecture, Computer System Analysis & Design, System Programming ইত্যাদি

এ ছাড়াও বিজনেস, স্ট্যাটিক্টিস, ইংলিশ, অ্যাকাউন্টিং, ম্যাথমিটিক্সসহ ইত্যাদি বিষয় ও পড়ানো হয়।

কম্পিউটার যখন প্রথম তৈরি হয়, তার আকৃতি ছিল বিশাল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটা ছোট হতে শুরু করল। এখন একটা কম্পিউটার হাতের মুঠোর মধ্যেই চলে এসেছে। কম্পিউটার কিন্তু অনেক বড় একটা কাজের ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে। এক কথায় প্রকৌশলের সব শাখায় কম্পিউটার ঢুকে পড়েছে। এটাই হলো আজকের এবং আগামী দিনের কম্পিউটার প্রকৌশল আর সবচেয়ে বড় কাজের ক্ষেত্র।

আমি মনে করি, কম্পিউটার প্রকৌশলের ছাত্রদের এখন বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের বিভিন্ন শাখা সম্পর্কে জানতে হবে। শুধু প্রোগ্রামিং শিখে ওয়েব ডেভেলপার কিংবা মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপার হয়ে এগিয়ে যাওয়া যাবে না। কম্পিউটারের অন্যান্য দিক গুলো সম্পর্কে ধারণা, যানবাহন, বায়োমেডিকেল ইন্ডাস্ট্রি থেকে শুরু করে বিজ্ঞানের সব শাখায় কম্পিউটার প্রকৌশলী হওয়া প্রয়োজন। কম্পিউটার প্রকৌশলের ছাত্রদের যে কোনো একটা অথবা কয়েকটা বিষয়ের উপর পারদর্শী হতে হবে এবং সব বিষয়েই ধারণা থাকা অন্তত জরুরি বলে আমি মনে করি।

কারা পড়বে কম্পিউটার প্রকৌশল ?

কম্পিউটার প্রকৌশল বিষয়টি তাদের জন্যই, যাদের এ নিয়ে আগ্রহ আছে। এখন কম্পিউটারের যুগ। এই যুগটা কীভাবে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত হয়ে যাচ্ছে এ সম্পর্কে জানার ইচ্ছা যাদের আছে, তাদের জন্যই কম্পিউটার প্রকৌশল। যেমন ধরুন - আপনার মোবাইলের ভেতরে থাকা ছোট একটা সিম, তার মধ্যে কত নাম্বার সেভ করা থাকে, এক মোবাইল থেকে অন্য মোবাইলে কল দিচ্ছেন, কথা বলছেন। কিভাবে? পাবজি, পেস ২০ (ফুটবল গেমস) সহ বিভিন্ন শুটিং গেমস, কার রেসিং গেমসসহ ইত্যাদি গেমস অনলাইন, অফলাইনে খেলছেন। গুগলে কোনো কিছু লিখে খুঁজলেই কীভাবে গুগল আমাদের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বের দিচ্ছে? কখনও জানার চেষ্টা করেছেন? ইচ্ছা হয়েছে কখনও? এসব নিয়ে যাদের মাথায় চিন্তা আসে এবং এমন নতুন কিছু তৈরি করতে চান, তাদের জন্যই কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল। শুধু তাই নয়, আমাদের জীবনের বেশিরভাগ ক্ষেত্রই এখন কম্পিউটার সেবার উপর নির্ভর।

কম্পিউটার প্রকৌশলের ভবিষ্যৎ কী ?

কম্পিউটার প্রকৌশল একজন শিক্ষার্থীর সামনে অনেক ধরনের রাস্তা খুলে দেয়।আপনি চাকরি করতে চান? সেই সুযোগ আছে এবং বাড়ছে দিন দিন এই সেক্টরের চাকরি। আপনি ঘরে বসে কাজ করতে চান তাও আপনি করতে পারবেন। আবার কম্পিউটার প্রকৌশলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণারও সুযোগ আছে অনেক।

প্রতিদিন কম্পিউটার আগের চেয়েও উন্নত হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে আরও নতুন নতুন কাজের সুযোগ ।

কম্পিউটার প্রকৌশলীদের কাজটা কি ? বা কম্পিউটার প্রকৌশল ক্যারিয়ার কোথায় ?

বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটা উচ্চশিক্ষার বিষয় হচ্ছে কম্পিউটার প্রকৌশল।পৃথিবী দিন দিন কম্পিউটার প্রযুক্তি নির্ভর হচ্ছে, এই বিষয়ে পড়ে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগও বাড়ছে। কম্পিউটার প্রকৌশলীর সাধারণ কার্যাবলীর মধ্যে রয়েছে সাধারণ ও বিশেষ কম্পিউটারের জন্য সফটওয়ার তৈরি করা, এমবেডেড মাইক্রোকন্ট্রোলারের জন্য ফার্মওয়ার লেখা, বিভিন্ন চিপ ডিজাইন, বিভিন্ন এনালগ সেন্সর ডিজাইন, বিভিন্ন সার্কিট বোর্ড ডিজাইন এবং অপারেটিং সিস্টেম ডিজাইন, অ্যাপস বানানো, ওয়েব ডেভেপার ইত্যাদি।

শুধু তাই নয়, কম্পিউটার প্রকৌশলীরা রোবোটিক্স গবেষণার জন্য উপযুক্ত। যেমন- যোগাযোগ ব্যবস্থা, সেন্সর ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে ডিজিটাল সিস্টেমের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। আমাদের দেশেই এখন অনেক কম্পিউটার আইটি ফার্মে চাকরির সুযোগ আছে। এ ছাড়া ধীরে ধীরে সরকারি বিভিন্ন ক্ষেত্রেও কম্পিউটার প্রকৌশলীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দেশে ও দেশের বাইরে গুগলসহ বড় বড় প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ তো আছেই।

কম্পিউটার প্রকৌশল ফিল্ডটি মোটামুটি অনেক ক্ষেত্রকেই নিজের আয়ত্তে করে নিচ্ছে।

যেমন:-

  • চিকিৎসা ক্ষেত্রে: রোগ নির্ণয় (এক্সরে রিপোর্ট), উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয়, রক্ত পরীক্ষা, চক্ষু অপারেশন, সিজার করা ইত্যাদি।
  • কৃষি ক্ষেত্রে: ধানের পাতের রোগ নির্ণয়, রাসায়নিক সার কম সময়ে ছিটানো, জমি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে চাষ করানো ইত্যাদি।
  • যোগাযোগ ক্ষেত্রে: মোবাইল টেকনোলজি, মোটামুটি সবাই জানি এতে কি রকম অবদান আছে । যেমন: অ্যান্ড্রয়েড ফোন প্রযুক্তিকে জানার ক্ষেত্রে অনেক সুবিধাকে আমাদের হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছে।
  • নির্মাণ ক্ষেত্রে: ব্রিজ তৈরিতে পিলারের দূরত্ব নির্ণয়, বিল্ডিং বানানোর নকশা তৈরি ইত্যাদি।
  • যানবাহন ক্ষেত্রে: বিমানে আকাশ পথ নির্ণয়, মহাকাশে রকেট যান পাঠাতে ইত্যাদি:।
  • ইলেক্ট্রনিক্স ক্ষেত্রে: তারবিহীন তথ্য সম্প্রচার, সিগনাল সিস্টেম তৈরিতে, সিসি ক্যামেরা, মোবাইল, কম্পিউটার ইত্যাদি।
  • পোশাক শিল্পে: আগুন ধরলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফায়ার অফিসকে জানানো, কাপড়ের নকশা অঙ্কনে ইত্যাদি।
  • কেনা-বেচা ক্ষেত্রে: রকমারি ডট কম, এখানেই ডট কম, টেক শপ বিডি, অ্যামাজন, দারাজসহ বিভিন্ন শপিং সাইট ইত্যাদি।