Sammo

১৫ মার্চ ২০১৭ ১২:০০


বিভাগ: চিকিৎসাবিজ্ঞান


রেইকি বা নুরের মাধ্যমে অবিশ্বাস্য চিকিৎসা


রেইকিকে মুসলিম দেশে সমূহে বলা হয় ‘নুর-এ-ইলাহি’ বা মহা প্রভূ আল্লাহ’র নূর। এটা কসমিক এনার্জি বা মহাজাগতিক প্রাণশক্তি, যা হাতের তালুর মাধ্যমে দেহের অসুস্থ জায়গায় প্রবেশ করিয়ে সুস্থ করে তোলার প্রক্রিয়া। এতে শুধু হাতের দুই তালুর ছোঁয়ায় রোগ নিরাময় সম্ভব হয়। তাই রেইকিকে বলা হয় হস্তস্পর্শ চিকিৎসা বিদ্যা বা স্পর্শচিকিৎসা বা এনার্জি থেরাপি/হিলিং।

রেইকি (REIKI) একটি জাপানি শব্দবন্ধ। ‘রেই’ ও ‘কি’ এই দুটি শব্দ মিলে ‘রেই-কি’ তৈরি হয়েছে। ইংরেজি হরফে REI-KI। REI- শব্দের ইংরেজি অর্থ হলো ইউনিভার্সাল বা কসমিক। বাংলায় মহাজাগতিক, আধ্যাত্মিক, সর্বোচ্চশক্তি। আর KI- শব্দের অর্থ ভাইটাল লাইফ ফোর্স এনার্জি বা সঞ্জীবনী প্রাণশক্তি বা জীবনী শক্তি। সব মিলিয়ে মানে দাঁড়ায় কসমিক এনার্জি বা মহাজাগতিক প্রাণশক্তি বা আধ্যাত্মিক শক্তি। এক কথায় সর্বব্যাপী প্রাণশক্তি। (Rei- Universal, Cosmic, Spiritual, Godly, God’s Wisdom or the Higher Power. Kei- Energy, Vital Force, Life force energy, Prana, Urza. Reiki- Spiritually guided life force energy)

স্বয়ংসম্পূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি ‘রেইকি’ কে মুসলিম দেশে সমূহে বলা হয় ‘নুর-এ-ইলাহি’ বা মহা প্রভূ আল্লাহ’র নূর/ জ্যোতি/আলো, কোথাও কোথাও ‘বার্ক বা বর্ক’। ভারতীয়রা একে ‘মহাজাগতিক প্রাণশক্তি’ বা ‘প্রাণ’ বলে থাকে। আমেরিকায় ইউনিভার্সাল লাইফ ফোর্স এনার্জি’ বা ‘কসমিক এনার্জি’, রাশিয়ায় বায়ো প্লাজমিক এনার্জি’, চীনে ‘তাইচি’ সংক্ষেপে ‘চি’। আর জাপানে ‘রেইকি’। আধুনিক বিজ্ঞানের শাখা ‘কসমোলজি’র ভাষায় রেইকি হলো ‘ঈশ্বর কণা’ বা হিগস-বোসান।

স্পর্শচিকিৎসা: DSCN7481 রেইকি প্রয়োগের সময় Touch বা স্পর্শের মাধ্যমে কসমিক এনার্জি শরীরে প্রবেশ করিয়ে সকল রোগব্যধির চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। একজন ‘রেইকি চ্যানেল’ এই কসমিক এনার্জি অ্যাবজর্ব (আত্মভূত/ধারণ/শোষণ) করেন তাঁর শরীরের বিভিন্ন শক্তি চক্র বা লতিফা বা এন্ডোক্রিন গ্রন্থির মাধ্যমে। এই শক্তি হাতের মাধ্যমে বাহিত হয়ে স্পর্শের মাধ্যমে নিজের বা অন্যের শরীরে অথবা যে কোনো বস্তুতে সঞ্চারিত করা হয়।

অর্থাৎ রেইকি হলো কসমিক এনার্জি। যা হাতের তালুর মাধ্যমে দেহের অসুস্থ জায়গায় প্রবেশ করিয়ে দিয়ে সুস্থ করে তোলার প্রকৃয়া ও পদ্ধতি। এতে শুধু হাতের দুই তালুর ছোঁয়ায় রোগ নিরাময় সম্ভব হয়। তাই রেইকিকে বলা হয় হস্তস্পর্শ চিকিৎসা বিদ্যা বা স্পর্শচিকিৎসা বা এনার্জি থেরাপি/হিলিং। মানব দেহে আছে সাতটি প্রধান শক্তিচক্র বা এনার্জি সেন্টার। কসমস বা মহাজগৎ থেকে এই প্রধান সাতটি চক্রে শক্তিপ্রবাহিত হয়।

আমরা যে সুস্থ থাকি তার কারণ হলো মুখ্য সাতটি এন্ডোক্রাইন বা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিতে অবিরাম শক্তি প্রবাহ বা চক্র প্রাণশক্তি বা এনার্জি নিরন্তর আহরণ করে থাকে। এই শক্তি বা এনার্জি শরীরের সাতটি এন্ডোক্রাইন গ্রন্থিতে যখন কোনো চক্র বা সংশ্লিষ্ট এন্ডোক্রাইন গ্রন্থিতে কোনো কারণে কসমিক এনার্জির প্রবাহ বাধা গ্রস্থ হয়, তখন সেই গ্রন্থি প্রাণশক্তির অভাবে সাময়িকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ে। ফলে সংশ্লিষ্ট গ্রন্থির সাথে যুক্ত অঙ্গ প্রত্যাঙ্গ সমূহ সাময়িকভাবে আংশিক বা সম্পূর্ণ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন ‘রেইকি’ বা মহাজাগতিক প্রাণশক্তির প্রবাহ দিলে বা প্রয়োগ করলে অসুস্থতা দূর হয়ে যায়।

মহাজাগতিক শক্তি তথা কসমিক এনার্জির প্রবাহের মাধ্যমে এই চিকিৎসা সম্পন্ন হয় বিধায় পাশ্চাত্যে এই প্রকৃয়াকে এনার্জি থেরাপি, এনার্জি মেডিসিন বা এনার্জি হিলিংও বলা হয়ে থাকে। শক্তি তরঙ্গ বা শক্তির প্রবাহ ‘রেইকি’ তড়িৎ প্রবাহ নয়, রেডিয়াম বা রঞ্জনরশ্মিও নয়, এটা রেডিও তরঙ্গের ন্যায় এক মহাজাগতিক শক্তি তরঙ্গ। বিদ্যুৎ চুম্বকীয় তরঙ্গ। এর দ্বারা স্পর্শচিকিৎসা বা এটাকে ক্ষুদ্র তরঙ্গাকারে প্রেরণ করে রোগীর সঙ্গে দূরত্বের ব্যবধানেও চিকিৎসা করা সম্ভব। এটা রেশম বস্ত্রের সূক্ষ আবরণ, লিনেন, প্লাস্টিক, পোরসেলিন, দস্তা, কাঠ কিংবা স্টিল, সিসা, পাহাড়, পর্বত, আগুণ, পানি সবকিছু ভেদ করে যেতে পারে। কারণ এটা এক অপরিমেয় শক্তির প্রবাহ। রেইকি শক্তি শিশু, যুবক বা বৃদ্ধ নির্বিশেষে প্রবাহিত হয়। =

যখন কেউ একে গ্রহণ করতে ইচ্ছা করে। রেইকি নিজেই পথ দেখায়। এক পবিত্র আয়োজনের মধ্যে দিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। যেহেতু এটা ঐশ্বরিক শক্তি- এর মধ্যে কোনো ভুল ভ্রান্তির সম্ভাবনা নেই। নেই কোনো দুশ্চিন্তা। কেউ এই শক্তি দ্বারা দীক্ষিত হওয়ার পর যখন তার হাতদিয়ে কোনো রোগীর রোগাক্রান্ত স্থানে স্পর্শ করে, তখন এই শক্তি তরঙ্গ প্রবাহিত হয় হাতের মাধ্যমেই। এটা বেদনা দূরীভূত করে। রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। মানুষকে গভীর নিদ্রামগ্ন হতে সাহায্য করে। মনে হয় যেন তাকে শুধু প্রয়োগ করে অজ্ঞান করা হয়েছে। রেইকি মহাজাগতিক শক্তি। কারণ এটা যে তরঙ্গে বিচরণ করে তা মানুষকে দেয় অপরিমেয় আনন্দ, তাকে করে নির্বেদ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী।

তথ্যসূত্র :reikicernterbd