Sammo

০১ জানুয়ারি ২০১৫ ১২:০০


বিভাগ: জোতির্বিদ্যা

পড়ার সময়: ১ মিনিট


তারার জন্ম কীভাবে হয়?


ছায়াপথে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গ্যাস ও বস্তুকণা থেকে তারার জন্ম হয়।

মহাবিশ্বে নতুন নতুন তারা জন্ম নেয়। ছায়াপথে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গ্যাস ও বস্তুকণা থেকে তারার জন্ম হয়। মহাশূন্যে বিপুল পরিমাণ গ্যাস ও বস্তুকণার মেঘবলয় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। নেবুলা অরিয়ন এ ধরনের একটি পরিচিত ধূলি-মেঘ, যা নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ ও স্পিৎজার স্পেস টেলিস্কোপে দেখা গেছে। ঘূর্ণায়মান বিশাল আয়তনের ধূলি-মেঘ নিজের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে সংকুচিত হতে থাকে। এ সময় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধূলিকণাগুলো ঘনীভূত হয়। এ সময় মাধ্যাকর্ষণশক্তি তাপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে গ্যাসপিণ্ডকে উত্তপ্ত করে তোলে। একে বলা হয় প্রোটোস্টার বা অণুতারা। এই উত্তপ্ত অণুতারা থেকেই তারার জন্ম।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর কেন্দ্রে কয়েক লাখ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটতে থাকে এবং একটি থেকে অন্য মৌলিক পদার্থ সৃষ্টি হয়। এই বিক্রিয়ায় প্রচুর শক্তি বেরোয়। এর ফলে মেঘপিণ্ড আবার প্রসারিত হতে থাকে। একসময় একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এটাই তারা।

গ্যাসপিণ্ডের মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে সংকোচন ও ভেতরের পারমাণবিক বিক্রিয়ায় সৃষ্ট প্রসারণের মধ্যে সাম্যাবস্থা প্রাপ্তির ফলে তারার সৃষ্টি হয়। মেঘপুঞ্জের কেন্দ্রীভবন প্রক্রিয়ায় হয়তো সব গ্যাস আকৃষ্ট হয় না। ওগুলো তারার গ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, উল্কা, ধূমকেতু বা গ্যাসীয় ধূলিকণা হিসেবে বিরাজ করে। আমাদের সূর্য একটি তারা। এ রকম আকারের একটি তারা গ্যাসীয় অবস্থা থেকে শুরু করে পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করতে প্রায় পাঁচ কোটি বছর লাগে। আমাদের সূর্য প্রায় এক হাজার কোটি বছর পর্যন্ত বর্তমান সাম্যবস্থায় থাকবে বলে হার্জপ্রাঙ্গ-রাসেল ডায়াগ্রামের (Hertzsprung–Russell Diagram) মূল ক্রমানুবর্তিতায় দেখানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, বিজ্ঞান ব্লগ, পৃথিবী ও মহাবিশ্ব।