মীর তাফহীম মাহমুদ

১৬ জুন ২০১৫ ১২:০০


বিভাগ: জোতির্বিদ্যা

পড়ার সময়: ২ মিনিট


হোয়াইট হোল!


আমরা এখন অদ্ভুত স্থানাংকটি ছাড়া হোয়াইট হোল চিন্তা করতে পারি না। বিজ্ঞানীরা বহু বিতর্কে আছেন এই হোয়াইট হোল নিয়ে। তাই আমরা কিন্তু কিছু বলতে পারব না যতক্ষণ পর্যন্ত না আরো কোনো যুক্তিযুক্ত থিওরি দাঁড় করানো হয়।

হোয়াইট হোল এমন একটি বস্তু যা পদার্থ বিজ্ঞানের কিছু তত্ত্বে দেখা যায়। কেউই এটা এখনো দেখেনি। যখন একটি ব্লাক হোল নিষ্পন্ন হয় তখন সব কিছু এর মধ্যে এসে পতিত হয়। আর যেসব বস্তু ব্লাক হোলে পতিত হয় সেগুলোকে কোনো একখানে যেতে হয়। হোয়াইট হোলের ধারণা এভাবেই আসে।

যে বস্তুগুলো ব্লাক হোলে পতিত হয় সেগুলো কোথায় যায়? হয় সেগুলো আমাদের মহাবিশ্বে নাহয় অন্য কোনোভাবে অন্য কোনো মহাবিশ্বে। কিন্তু তার সম্ভাবনা একেবারেই কম। কারণ অন্য মহাবিশ্বে যাওয়ার পক্ষে কোনো যুক্তিই নেই। তাই ধারণা করা হয় বস্তুগুলো বের হতে হলে এমন মাধ্যম দরকার যা সবকিছু বের করে দেয়। আর এই ধারণা থেকেই জন্ম নেয় হোয়াইট হোলের।

বিজ্ঞানীদের ধারণা যতটুকু পজেটিভ গ্রাভিটির চাপে ব্লাক হোল সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে এবং সব কিছুকে নিজের করে নিচ্ছে ঠিক তেমনি করে হোয়াইট হোল নেগেটিভ গ্রাভিটির চাপে হোয়াইট হোল সবকিছু বের করে দিচ্ছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন ব্লাক হোলের কোয়াসার গুলো হতে পারে হোয়াইট হোল। সব কিছু যেহেতু বের করে দেয় তাই একে সাদা দেখা যায়। তাহলে এটিই হলো হোয়াইট হোল।

এ সময় এটি একটি ধারণা মাত্র। এটা ঠিক নাও হতে পারে। আবার ঠিক হতেও পারে। ঠিক নাও হতে পারি বলছি কারণ স্টিফেন হকিং- হকিং রেডিয়েশন নামক এক তত্ত্ব দাঁড় করিয়েছিলেন যাতে বলা হয়েছে ব্লাক হোলে কোনো বস্তু পতিত হলে তা হতে শক্তিও নির্গত হয়। অর্থাৎ, ব্লাক হোল বড় হবেনা। কিন্তু এতে বলা আছে ব্লাক হোল ধ্বংস হবে। তবে বহু শতাব্দি লাগবে ধ্বংস হতে।

বিভ্রান্তমীয় হোয়াইট হোল:

বিভ্রান্তময়ী হোয়াইট হোল দেখে মনে হচ্ছে এই অংশ আবার কেন? উপরে তো বলেই দেওয়া হয়েছে হোয়াইট হোল সত্যও হতে পারে আবার মিথ্যাও।  

যাই হোক কথা না ঘুরিয়ে হোয়াইট হোলের বিভ্রান্তময়ী ধারণায় যাই।

অদ্ভুত স্থানাংকিত ব্লাক অ্যান্ড হোয়াইট গর্ত:

তুমি যদি হোয়াইট হোলকে ভাবো বিগ ব্যাং তাহলে সঠিক হলেও হতে পারো। কিন্তু ব্লাক হোলের বিপরীত ভাবলে তা কখনোই বাস্তব হতেই পারে না।

আমরা শুধু তখনই হোয়াইট হোলকে ব্লাক হোলে দেখতে পাবো যখন আমরা কিছু অদ্ভুত স্থানাংকের সামনে ব্লাক হোলকে ব্যাখ্যা করবো। তাই তারা শুধু অবাস্তব গাণিতিক হস্তনির্মিত বস্তু।

তবে আমি বলতে চাচ্ছি না হোয়াইট হোল তত্ত্বকে আমরা ফেলে দিতে পারি। বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে অনেক তর্ক করছেন। সুতরাং আমাদের তর্ক না করাই ভালো।

যাই হোক, তোমার পক্ষে এখন হোয়াইট হোল দেখার সম্ভাবনা মোটামুটি নেই বললেই চলে। কারণ অদ্ভুত স্থানাংক অনুসারে এটা সত্য হলেও সাধারণ স্থানাংক অনুসারে এটা মোটেই সত্য নয়। এটা নাকি একবারই দেখা গিয়েছিল সেই বিগ ব্যাং এর সময়। যদিও দেখা যায়নি, তবুও তৈরি তো হয়েছিল!!!

(ডায়াগ্রাম: স্পেস-টাইম ব্লাক হোলের ভেতরে পুঞ্জিভুত হয়ে যায়। একে সহজ করে তোলার জন্যই এই Kruskal-Szekeres স্থানাংকটি সৃষ্টি হয়েছে)। 

চিত্রটিতে দু’টি সরল রেখা কেন্দ্র দিয়ে যাচ্ছে সেগুলো হলো সময়ের Constant Line। ব্লাক হোলের ঘটনা দিগন্তও অসীম দূরে। (বাহির দৃষ্টিকোণ হতে এটা চিরকালের জন্য)। ব্লাক হোলের অভ্যন্তর হলো উপরের ত্রিভুজ, সমগ্র মহাবিশ্বের অধিকার ত্রিভুজীয় অঞ্চলে, আর হোয়াইট হোল হলো নিচের এলাকা।   

নিচের অঞ্চলের সীমানা অসীম অতীতে। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে, ব্লাক হোলের এই নির্বোধ স্থানাংক আদর্শায়ন করলেও আমরা দেখতে পাবো হোয়াইট হোল হলো ব্লাক হোল থেকে অসীম অতীতে। এখানে একটা বিষয়- ব্লাক হোলকে কি সসীম অতীতে নিষ্পন্ন হতে হয়?

এই মডেল সম্পূর্ণ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করলে আমরা কিছুটা বুঝতে পারি হোয়াইট হোল থাকলেও থাকতে পারে ব্লাক হোল থেকে অসীম অতীতে। তবে সিউর নই। তবে বলা যায়, এটি অন্যান্য জিনিস সম্পর্কে চিন্তা করতে বা গভীর কল্পনা করতে ব্যবহৃত একটি বিমূর্ততা।

আমরা এখন অদ্ভুত স্থানাংকটি ছাড়া হোয়াইট হোল চিন্তা করতে পারি না। এখন আমাদের মনে হতে পারে হোয়াইট হোল হলো সম্পূর্ণ বানোয়াট আর গাঁজাখুরি গল্প। কিন্তু আমরা এখনো নিশ্চিতভাবে কিছুই বলতে পারি না। কেননা বিজ্ঞানীরা বহু বিতর্কে আছেন এই হোয়াইট হোল নিয়ে। তাই আমরা কিন্তু কিছু বলতে পারব না যতক্ষণ পর্যন্ত না আরো কোনো যুক্তিযুক্ত থিওরি দাঁড় করানো হয়।